বুধবার , ২৯ জুন ২০২২

জাহিন স্পিনিং এর আর্থিক অবস্থা নাজুক।

পপূলেশন ডেস্কঃ পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জাহিন স্পিনিংয়ের ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে বেশকিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। কোম্পানির মনোনীত নিরীক্ষক মেসার্স জি. কিবরিয়া অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জাহিন স্পিনিংয়ের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিটির কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে কমিশন।

সম্প্রতি জাহিন স্পিনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। এ চিঠি জারি হওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানিটিকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে বিএসইসি।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সম্পত্তি, প্ল্যান্ট এবং যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত বিষয়ে ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার ৭ টাকার কাজ চলছে৷ এর মধ্যে কোম্পানির সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও ইকুইপমেন্ট এবং কাজের অগ্রগতির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯৪ হাজার ৩২৯ টাকা। এছাড়া, সংযোজনের ক্ষেত্রে ১ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা হিসেবে সমন্বয় করা হয়েছে। বাকি অর্থ নগদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যেটা আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ধারা ৩০(এম) এর লঙ্ঘন। এছাড়া, বিএসইসি পর্যাপ্ত উপযুক্ত অডিটের প্রমাণ পায়নি, যার ওপর তারা কোনো মতামত দিতে পারে। সেই সঙ্গে আর্থিক প্রতিবেদনে ধরা না পড়া কোনো ভুল থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে চিঠিতে জানিয়েছে বিএসইসি।

বিএসইসি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে, কমিশন কোম্পানিটির গত ৫ বছরের আর্থিক কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করেছে। বছরের পর বছর ধরে কোম্পানির আর্থিক কর্মক্ষমতার অবনতি হচ্ছে। কোম্পানিটির মূল আর্থিক সূচক বছরের পর বছর ধরে দুর্বলতা নির্দেশ করছে।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২১ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ২৮ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির ঋণাত্মক ইপিএস ছিল ২.২৫ টাকা। ২০২০ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ৬০ কোটি ৮৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির ঋণাত্মক ইপিএস ছিল ২.৪৮ টাকা। ২০১৯ সালে কোম্পানিরি আয় ছিল ৮০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ০.৬০ টাকা। ২০১৮ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ৮৫ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১.০৬ টাকা। আর ২০১৭ সালে কোম্পানিটির আয় ছিল ৮৬ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১.২১ টাকা।

এ পরিস্থিতিতে কমিশন মনে করে, কোম্পানিটির চলমান আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ১১(২) এর অধীনে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানিটিকে উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ বিএসইসিতে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

জাহিন স্পিনিং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৫ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৩৬8টি। এর মধ্যে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে ৩১.১০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩০.৫৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩৮.৩৫ শতাংশ শেয়ার আছে। মঙ্গলবার (১৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জাহিন স্পিনিংয়ের শেয়ার

Check Also

IPO

আরও দুই আইপিও অনুমোদন।

আরও দুই আইপিও অনুমোদন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x
Skip to toolbar