রবিবার , ২৮ নভেম্বর ২০২১
সর্বশেষ সংবাদ
BSEC CHAIRMAN
BSEC CHAIRMAN

বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ বলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে: বিএসইসি চেয়ারম্যান।

পপূলেশন ডেস্কঃ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে মনে করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত তিনি একথা বলেন।

শিবলী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে যারা ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন, তারা শুধু সূচকের দিকে তাকিয়ে আছেন। সূচক হচ্ছে, চাহিদা ও যোগানের প্রতিফলন। সূচক দিয়ে বাজারের ঝুঁকি মাপা হয় না।
“আমরা ঝুঁকি মাপি পিই দিয়ে। আমরা যদি দেখি পিই রেশিও বিপদসীমা অতিক্রম করছে, তখন আমরা সতর্ক হয়ে যাব। কিন্তু এই মুহূর্তে সবার কাছে আমার অনুরোধ বিনিয়োগকারীদের ভয় দেখাবেন না। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ভীতির সৃষ্টি করবেন না।”

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাপক ধসের সময় বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর পিই রেশিও (প্রাইস আর্নিং রেশিও) ৩০ ছাড়িয়েছিল। এখন ডিএসইর পিই রেশিও ১৯ এর ঘরে।

শিবলী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বলে থাকেন, শেয়ারের দাম অনেক বেড়ে গেছে তাই পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, যারা বলছেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে, তারা এমন এক সময়ের সঙ্গে তুলনা করছেন যখন বাংলাদেশের পুঁজিবাজার খুব খারাপ ছিল। তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে পুঁজিবাজারকে তুলনা করছেন না। তারা দেখছেন না বাংলাদেশের জিডিপি কত বা বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত।

“বিষয়টি অরো পরিষ্কার হবে যখন আমরা দেখব যে আমরা কাদের সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিকতা করছি… ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তান। আমরা তাদের সাথে আমাদের অর্থনীতি তুলনা করতে চাই।”

বাংলাদেশের অর্থনীতির গতির হিসেবে সামনে পুঁজিবাজারের আরও ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের থামাবেন না, আমরা এমন একটি পুঁজিবাজার তৈরি করতে চাই, যেখানে আইন-কানুন সঠিকভাবে পালন হবে; সুশাসন থাকবে; বিনিয়োগকারীরা নির্ভয়ে বিনিয়োগ করতে আসবে।

“বাংলাদেশে এখন সুদের হার কম, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কম। এখন মানুষ যদি পুঁজিবাজারে না আসতে পারে, তারা টাকা নিয়ে কোথায় যাবে? আমরা বিনিয়োগের ভালো বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে গড়ে তুলছি।”

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিএসইসি প্রধান।
তিনি বলেন, “দেশের পুঁজিবাজারের দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রথমে আমরা বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিয়েছি। আমাদের কাছে বিনিয়োগকারীই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে একসময় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমরা এসে সবার প্রথমেই সেই দিকেই নজর দিয়েছি, যেন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আস্তে আস্তে একটি সুরক্ষিত পুঁজিবাজার তৈরি করছি।”

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর। প্রধান অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ।

বিশ্বের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশন (আইওএসসিও) এর সদস্য হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে আসছে বিএসইসি।

এবার এ সপ্তাহের অংশ হিসেবে ৪ থেকে ১২ অক্টোবর পুঁজিবাজার নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এবারের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে- টেকসই অর্থায়ন এবং আর্থিক প্রতারণা কেলেঙ্কারি ঠেকানো।

Check Also

down trend

টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা হাওয়া ! ২৬ নভেম্বর ২০২১

টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের ১৫ হাজার কোটি টাকা হাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
Skip to toolbar