বৃহস্পতিবার , ১৩ মে ২০২১
সর্বশেষ সংবাদ

হঠাৎ করে বস্ত্র খাতের শেয়ার চাঙ্গা। ২ মে ২০২১


শেেয়ারবাজার ডেস্ক:   সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার উত্থান প্রবণতায় পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে সব মূল্য সূচক ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন বাজারে আগের দিনের তুলনায় সূচক বেড়েছে, লেনদেন বেড়েছে এবং বেশিরভাগ কোম্পনির শেয়ার দরও বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্থানের বাজারেও বস্ত্র খাতের শেয়ার দরে চাঙ্গাভাব ছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীরা এ খাতের শেয়ারে বাই মুডে ছিল বিধায় শেয়ার দরে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

বস্ত্র খাতে মোট ৫৬টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৮টির, দর কমেছে ৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির দর। এ খাতের আজ দর বেড়েছে ৮৫.৭১ শতাংশ শেয়ারের, কমেছে মাত্র ৭.১৪ শতাংশ শেয়ারের দর। শীর্ষ ১০ গেইনারের ৯টিই ছিল বস্ত্র খাতের শেয়ার এবং শীর্ষ নয় কোম্পানির শেয়ার ছিল শেস পর্যন্ত বিক্রেতা শূন্য।

বাজার সংশ্লিষ্ট বলছেন, করোনাকালীন বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই ভালো মুনাফা করেছে। অভিজ্ঞ মহল এবং বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন সুতার দাম বৃদ্ধির ফলে এ খাতে প্রচুর মুনাফা হয়েছে।

জানা যায়, কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ম্যাকসন্স স্পিনিং এবং জেনারেশ নেক্সট কোম্পানি লিমিটেডের। এদিন এ দুই কোম্পানির শেয়ার দর ১০ শতাংশ দর বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। এর মধ্যে ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের প্রতিটি শেয়ার দর এক টাকা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ১২ টাকা ১০ পয়সা। এদিন এ কোম্পানির মোট এক কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯৯টি শেয়ার এক হাজার ৯৯৬বার হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ২০ কোটি ৫১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। যা টাকার অংকে বস্ত্র খাতের সব চেয়ে বেশি।

‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে- ৫০০ কোটি এবং ২৩৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ১৯৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ কোম্পানির ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৯টি শেয়ারের মধ্যে ৩০.০০ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৭.০৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ৫২.৯৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০১৭ ও ২০১৮ সালে প্রতিবছর ৫ শতাংশ করে ক্যাশ এবং ২০১৯ ও ২০২০ সালে প্রতিবছর ২ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৪০ পয়সা। গত বছর একই সময় যার পরিমাণ ছিল ৪ পয়সা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১৮ টাকা ৭২ পয়সা।

অপরদিকে, জেনারেশন নেক্সট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিটি শেয়ার দর ৩০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয় ৩ টাকা ৩০ পয়সা। এদিন এ কোম্পানির মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ২৫৩টি শেয়ার ১৯০বার হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ৪০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।

‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটি ২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে- ৫০০ কোটি এবং ৪৯৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৭০ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ কোম্পানির ৪৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৫৬টি শেয়ারের মধ্যে ১৩.৮২ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২২.৭৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ৬৩.৪৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য সর্বশেস ২০১৮ সালে প্রতিবছর ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ৩ পয়সা। গত বছর একই সময় যার লোকসান ছিল ১২ পয়সা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১১ টাকা ৮৭ পয়সা।

টাকার অংকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ড্রাগন সোয়েটার। এদিন এ কোম্পানির মোট ৫৩ লাখ ৭১ হাজার ৭১৯টি শেয়ার এক হাজার ৪৮৩বার হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা। এদিন কোম্পানির শেয়ার দর ৯.৭১ শতাংশ বা এক টাকা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার ১১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়

About admin

Check Also

৬ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ। ১১ মে ২০২১

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোম্পানির গত বছরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Skip to toolbar